নিজস্ব প্রতিবেদক:
গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামীকে বাসায় পেয়েও আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন অথচ নিরপরাধ এক নারী ও এক যুবককে বাসা থেকে তোলে নিয়ে ১৪ ঘন্টা আটকে রেখেছেন মনোহরদী মডেল থানার এস আই মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বাইপাস রোড এলাকার ভাড়াটিয়া মিরপুর ডিওএইচএস, পল্লবীতে অবস্থিত ফ্যাশন স্পোর্টস ওয়ারের মালিক কোতয়ালী থানায় ৪২০/৪০৬/১০৯ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীকৃত আসামী সাইদুর রহমান সাঈদ ওরফে প্রিন্সকে আটক করতে মনোহরদী মডেল থানার এস আই শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তার বাড়িতে প্রবেশ করে।
এ সময় তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখলে এস আই শাহিনুর তাকে আটক না করার শর্তে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। পরে আড়াই লাখ টাকায় আটক না করার দফারফা করে টাকা নিয়ে চলে যান। এই ঘটনার কিছু দিন পর এসআই শাহিনুর পুনরায় সাঈদের বাসায় গিয়ে ঘরে ঢুকতে না পেরে তার স্ত্রীর বোনের ছেলে নাদিম হোসাইনকে আটক করে নিয়ে আসতে চাইলে প্রতিবেশী রোজি নামে এক নারী বাধা দিলে এস আই শাহিনুর মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসে। দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে এস আই শাহিনুর বলেন, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আমরা কাউকে আটক করি না। আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেই নি। তবে আমি চলে আসার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা টাকা পয়সা নিতে পারে।
জানা যায়, এস আই শাহিনুর, নাদিম ও প্রতিবেশী রোজির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোন অভিযোগ দেখাতে পারেন নি।
সাঈদ বলেন, টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর সেই রাতেই আমি ঢাকা চলে আসি। এরপর থেকে এলাকায় যাই না।
নাদিম হোসাইন বলেন, আমি খালার বাসায় বেড়াতে যাই। সেখান থেকে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ আমাকে আটক করে। প্রতিবেশী রোজি আন্টি এতে বাধা দিলে পুলিশ তাকেও আটক করে। থানায় নিয়ে এসে আমাদেরকে ১৪ ঘন্টা আটকে রাখে।
এ ব্যাপারে মনোহরদী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে অবগত নই। বিস্তারিত জেনে পরে আপনাদেরকে জানাবো।