নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিদ্যালয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত মিড ডে মিলের খাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার। অভিযোগে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাদির সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা ঝুমা আক্তার ও সাথী আক্তার আপন চাচাতো বোন। তারা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং কর্মঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার বাড়িতে যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং বিদ্যালয়ের জমিদাতা হিসেবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত মিড ডে মিলের খাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকার আপন মামাতো বোনকে মিড ডে মিলের খাবারসহ স্থানীয় জনগণ আটক করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক সুমাইয়া আক্তার ওই নারীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে একটি পক্ষ বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সুমাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধেই খাবার চুরির অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়। এমনকি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন অনেকে।
তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের খাবার সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব সাথী আক্তারের ওপর রয়েছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় কাগজে-কলমে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও সাথী আক্তার পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। ফলে খাবারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য শিক্ষক সুমাইয়া আক্তারের ওপর খাবার চুরির অভিযোগ চাপানো নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সাথী আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “খাবারের দায়িত্বে আমি আছি, কিন্তু আমি প্রধান শিক্ষক না।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের প্রভাব বিস্তারের কারণে শিক্ষকরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ঝুমা আক্তারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের।