শিরোনাম :
নরসিংদীতে স্কলার পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ! শিবপুরে ডাকাতি মামলায় সাইফুল গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন পলাশের ইউরিয়া সার কারখানায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেলাবতে যার উপরে হামলা তার নামেই মামলা দিল ওসি!  নরসিংদীতে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ! বেলাবো ইউএনওর নির্দেশে স্থাপনা ভাঙচুর, জমি দখল বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন ও পুলিশ! নরসিংদীতে রাব্বিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন: নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকার গ্রেপ্তার ফুলের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন নরসিংদীতে মদের দোকানের ক্যাশিয়ারকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ: পিয়াস নামে এক যুবক গ্রেপ্তার নরসিংদী ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলার অভিযোগে থানায় জিডি চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে জামিন না দেওয়ায়, জেল সুপারকে শোকজ করেন বিচারক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে..!

নরসিংদীতে স্কলার পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম :
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

নরসিংদী প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত নরসিংদী স্কলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মাহাবুবুর রহমান ইভা’র বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থ পরিশোধ না করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শেষে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা পুরো অর্থ পাননি। দেড় বছরেও ৬ হাজার টাকা করে বকেয়া, টাকা চাইতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় প্রতি তিন মাস অন্তর ২৪ জন করে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে—ম্যাশনারি বা রাজমিস্ত্রি, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংস, কেয়ার গিভিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স। ছয়টি কোর্সে ২৪ জন করে শিক্ষার্থী হলে বছরে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ লক্ষ ৪০ হাজার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? তার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আদনান হাসান ও ফাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পার হলেও তারা প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা পেয়েছেন। এখনো তাদের ৬ হাজার টাকা করে বকেয়া রয়েছে। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার পাওনা টাকা চাইতে গেলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, মোট ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১৪ জনকে টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৩৪ জনের পাওনা অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। কেন একই প্রশিক্ষণের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারও টাকা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের টাকা আটকে রাখা হয়েছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাহাবুবুর রহমান ইভা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। এমনকি শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে প্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। দামি গাড়ি ব্যবহার এবং একাধিক বাড়ি-সম্পদের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন থাকলেও এসব সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে তারা কোনো স্পষ্ট তথ্য জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে নরসিংদী স্কলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে প্রিন্সিপাল মাহাবুবুর রহমান ইভাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বর জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন।

তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি নিউজ করেন, দুদকে অভিযোগ দেন।” একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এক নারী স্টাফের সঙ্গে সাংবাদিক উচ্চবাচ্য করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থের অর্থপ্রাপ্তি ও বিতরণ নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে কি না, কারা টাকা পেয়েছেন, কারা পাননি এবং বকেয়া অর্থ কোথায় রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থ যদি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে তা পরিশোধ করা হচ্ছে না কেন? আর ১৪ জনকে অর্থ পরিশোধ করা হলেও বাকি ৩৪ জনের অর্থ আটকে থাকার কারণই বা কী?

নরসিংদীর সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ বিতরণের হিসাব যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category