শিরোনাম :
নরসিংদীতে স্কলার পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ! শিবপুরে ডাকাতি মামলায় সাইফুল গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন পলাশের ইউরিয়া সার কারখানায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেলাবতে যার উপরে হামলা তার নামেই মামলা দিল ওসি!  নরসিংদীতে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ! বেলাবো ইউএনওর নির্দেশে স্থাপনা ভাঙচুর, জমি দখল বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন ও পুলিশ! নরসিংদীতে রাব্বিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন: নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকার গ্রেপ্তার ফুলের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন নরসিংদীতে মদের দোকানের ক্যাশিয়ারকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ: পিয়াস নামে এক যুবক গ্রেপ্তার নরসিংদী ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলার অভিযোগে থানায় জিডি চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে জামিন না দেওয়ায়, জেল সুপারকে শোকজ করেন বিচারক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে..!

বেলাবতে যার উপরে হামলা তার নামেই মামলা দিল ওসি! 

প্রতিনিধির নাম :
প্রকাশকাল : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখলে থাকা শাহিন মোল্লার স্থাপনা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে তার ওপর হামলার ঘটনায় উল্টো তাকেই মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শাহিন মোল্লার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিতে তিনি প্রায় তিন মাস ধরে স্থাপনা নির্মাণ করে অবস্থান করছিলেন। তার নামে ওই জমির বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্রও রয়েছে। তার নামে জমির খারিজ রয়েছে। এ অবস্থায় একটি ভূমিদস্যু চক্র জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগ রয়েছে, জমিটি দখলে নিতে চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হলে শাহিন মোল্লা ও জমির বিক্রেতা সোহেল মিয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন। জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাহিন মোল্লার নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ১ অক্টোবর নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহিন মোল্লা। সেখানে তিনি জমি ও স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর পরদিন ২ অক্টোবর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ও পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে শাহিন মোল্লার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তার পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর হামলার শিকার শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধেই বেলাব থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে ওই মামলায় শাহিন মোল্লা কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যে ব্যক্তি নিজেকে জমির দখলদার দাবি করে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন, তার স্থাপনা উচ্ছেদের পর যদি তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে তদন্ত করে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করার পরিবর্তে কেন তাকেই মামলার আসামি করা হলো?

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় মামলার আসামি নির্ধারণ—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব যাদের, তাদের হাতেই যদি একজন ভুক্তভোগী নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করেন এবং হামলার শিকার হওয়ার পরও উল্টো মামলায় কারাগারে যেতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে?

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে কোনো পক্ষ যেন প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সুবিধা নিতে না পারে এবং হামলার প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহিন মোল্লা ও সোহেল মিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category