নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখলে থাকা শাহিন মোল্লার স্থাপনা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে তার ওপর হামলার ঘটনায় উল্টো তাকেই মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শাহিন মোল্লার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিতে তিনি প্রায় তিন মাস ধরে স্থাপনা নির্মাণ করে অবস্থান করছিলেন। তার নামে ওই জমির বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্রও রয়েছে। তার নামে জমির খারিজ রয়েছে। এ অবস্থায় একটি ভূমিদস্যু চক্র জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ তার।
অভিযোগ রয়েছে, জমিটি দখলে নিতে চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হলে শাহিন মোল্লা ও জমির বিক্রেতা সোহেল মিয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন। জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাহিন মোল্লার নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ১ অক্টোবর নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহিন মোল্লা। সেখানে তিনি জমি ও স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এর পরদিন ২ অক্টোবর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ও পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে শাহিন মোল্লার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তার পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর হামলার শিকার শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধেই বেলাব থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে ওই মামলায় শাহিন মোল্লা কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যে ব্যক্তি নিজেকে জমির দখলদার দাবি করে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন, তার স্থাপনা উচ্ছেদের পর যদি তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে তদন্ত করে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করার পরিবর্তে কেন তাকেই মামলার আসামি করা হলো?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় মামলার আসামি নির্ধারণ—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব যাদের, তাদের হাতেই যদি একজন ভুক্তভোগী নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করেন এবং হামলার শিকার হওয়ার পরও উল্টো মামলায় কারাগারে যেতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে?
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে কোনো পক্ষ যেন প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সুবিধা নিতে না পারে এবং হামলার প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহিন মোল্লা ও সোহেল মিয়া।