নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ পাওয়ার পর এক হাজতিকে মুক্তি না দেওয়ায় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। ওই হাজতি ইলিয়াছ হোসেন চট্টগ্রামের ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই নোটিশ দেন। আদালত কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে আগামী দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলেন।
ইলিয়াছ হোসেনের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ জানায়, তার মক্কেল উচ্চ আদালতে জামিনের আদেশ গত বুধবার দুপুর ১২টায় কারা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। এরপর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে আদালতে আবেদন করেন তিনি।
আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, বুধবার দুই শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একজন হাজতিকে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ইলিয়াছ হোসেনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। আদালতের নোটিশের জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আদালতে ক্ষমা চাওয়া হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মামলায় ইলিয়াছ হোসেন এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে জামিননামা দাখিল করা হয়।
আরো জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ জামিননামাটি গ্রহণ করে।
এরপরও ইলিয়াছ হোসেনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী। মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এনে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিনিয়র জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছ হোসেন (২৫) নগরের চকবাজার থানাধীন ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোঃ ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। জানা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা পৃথক তিনটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৬ জুন তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আরো জানা যায়, গত ১৪ মে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরেকটি মামলা হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে ইলিয়াছ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।